শিরোনাম:
●   মিরসরাইয়ে বসতঘর থেকে ৬৯টি গোখরা সাপের বাচ্চা উদ্ধার ●   নবীগঞ্জে ইউপি সদস্য জাহেদের অপতৎপরতা ●   পানছড়িতে অসহায় পরিবারকে গৃহ পূর্ণনির্মান ●   ফটিকছড়ির ছয় ইউপিতে চেয়ারম্যান না থাকায় সেবা কার্যক্রম ব্যাহত ●   ঈশ্বরগঞ্জে অপহরণ মামলার আসামি গ্রেফতার ●   রোটারেক্ট ক্লাব অব চিটাগং এলায়েন্স’র নতুন কমিটি গঠন ●   ‘আলোর পথে’র মহিলা মাহফিল সম্পন্ন ●   ঢাকা সফররত চীনের কমিউনিস্ট পার্টি প্রতিনিধি দলের সাথে বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির বৈঠক ●   দীর্ঘসুত্রিতা পরিহার করে বিচার,সংস্কার ও জাতীয় নির্বাচনের কার্যকরি পদক্ষেপ নিন ●   রাঙামাটির রাজনগর ৩৭ বিজিবি’র অভিযানে বিপুল পরিমাণ অবৈধ কাঠ জব্দ ●   রাবিপ্রবি’তে কর্মচারীদের কর্মদক্ষতা উন্নয়ন বিষয়ক প্রশিক্ষণ ●   নবীগঞ্জে সাবেক কাউন্সিলর যুবলীগ নেতা নানু গ্রেফতার ●   রাঙামাটি-চট্টগ্রাম রোডে অবৈধ সভাপতি সৈয়দ কোম্পানীর লক্কর-জক্কর বাস চলাচল করছে ●   সাংবাদিক কামরুজ্জামানের সুস্থতা কামনা করেছে জাতীয় মফস্বল সাংবাদিক ফোরাম ●   কাউখালীতে মারমা নারী ধর্ষণের ঘটনায় মূল আসামী ফাহিম চট্টগ্রামে গ্রেপ্তার ●   মিরসরাইয়ে কালবৈশাখী ঝড়ে ক্ষতিগ্রস্ত ঘরবাড়ি ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বিদুৎ বিচ্ছিন্ন রয়েছে ●   চুয়েট স্টাফ এসোসিয়েশনের সভাপতি জামাল ও সম্পাদক প্রিয়তোষ ●   ঈশ্বরগঞ্জে নকলে বাঁধা দেওয়ায় শিক্ষকের উপর হামলার চেষ্টা ●   রাবিপ্রবি’তে ভর্তি পরীক্ষা আয়োজনের লক্ষ্যে নিরাপত্তা সংক্রান্ত সমন্বয় সভা ●   রাঙামাটিতে প্রবীন ব্যাক্তি ইন্দ্রজিৎ ত্রিপুরার পাশে জেলা পরিষদ সদস্য হাবীব আজম
ঢাকা, রবিবার, ২৭ এপ্রিল ২০২৫, ১৪ বৈশাখ ১৪৩২

Daily Sonar Bangla
সোমবার ● ১৪ নভেম্বর ২০২২
প্রথম পাতা » কৃষি » কৃষকের ক্ষেতের ফসল সুরক্ষায় ঐতিহ্যের স্মারক হয়ে দাঁড়িয়ে কাকতাড়ুয়া
প্রথম পাতা » কৃষি » কৃষকের ক্ষেতের ফসল সুরক্ষায় ঐতিহ্যের স্মারক হয়ে দাঁড়িয়ে কাকতাড়ুয়া
৩০৪ বার পঠিত
সোমবার ● ১৪ নভেম্বর ২০২২
Decrease Font Size Increase Font Size Email this Article Print Friendly Version

কৃষকের ক্ষেতের ফসল সুরক্ষায় ঐতিহ্যের স্মারক হয়ে দাঁড়িয়ে কাকতাড়ুয়া

ছবি : সংবাদ সংক্রান্ত নাজমুল হক নাহিদ, আত্রাই (নওগাঁ) :: উত্তর জনপদের শষ্য ভান্ডার খ্যাত নওগাঁর আত্রাই উপজেলার কৃষকেরা আজও ক্ষেতের ফসল রক্ষায় কাকতাড়–য়ার ব্যবহার করে আসছেন। আবহমান গ্রাম বাংলায় কৃষক ক্ষেতের ফসলকে পাখি, ইঁদুর ও মানুষের কু-নজরের হাত থেকে রক্ষা করার কৌশল হিসেবে অদ্ভূত ও অভিনব পদ্ধতির আবিষ্কার করেন আদিকাল থেকে এরকম এক প্রহরী যার নাম কাকতাড়ুয়া। গ্রাম বাংলার গ্রামীন জনপদে ফসলের ক্ষেতের অতি পরিচিত দৃশ্য এই কাকতাড়ুয়া।

কালের প্রবাহে ফসল রক্ষার এই সনাতনি পদ্ধতিটি গ্রাম বাংলার বিমূর্ত প্রতীক হয়ে উঠে আসে গল্প, কবিতা, নাটক, সিনেমায়। এরপর কাকতাড়ুয়া আধুনিক সমাজে পৌছে যায় শিল্পীর চিত্রকর্মে বইয়ের প্রচ্ছদে প্রচ্ছদে।

গ্রাম-বাংলার গ্রামীন জনপদে আজো প্রবাদ আছে যাবার পথে কালো বিড়াল অতিক্রম করলে যাত্রা অশুভ হবে। পরীক্ষার আগে ডিম খেলে ফলাফল খারাপ হবে। গ্রামাঞ্চলে এখনো মায়েরা ছোট্ট শিশুর কপালে কালো টিপ এঁকে দেন, যাতে কারো নজর না লাগে।

বিজ্ঞানের যুগেও এমন অদ্ভুত বিশ্বাসের লোকের অভাব নেই গ্রামীণ জনপদে! তেমনই এক আত্মবিশ্বাস নিয়ে কৃষকরা ক্ষেতের ফসল বাঁচাতে কাকতাড়ুয়া (মানুষের প্রতীক) ব্যবহার করছেন।

কৃষকদের আত্মবিশ্বাস, কাকতাড়ুয়া স্থাপন করলে ক্ষেতের ফসল দেখে কেউ ঈর্ষা করবে না বা ফসলে কারো নজর লাগবে না। পাঁখি বা ইঁদুর ফসল নষ্ট করতে পারবে না। ক্ষেতের ফসল ভাল হবে।

লম্বা খাড়া দন্ডায়মান একটি খুটি এবং দুই বা তিন ফুট উপরে আড়াআড়ি অরেকটি খুটি বেঁধে তাতে ছন বা খড় পেচিয়ে মোটাসোটা করা হয়। তারপর আড়াআড়ি বাঁধানো অংশের সামান্য উপরে ছন বা খড়কুটো দিয়ে ডিম্বাকৃতি বা মাথার মতো বস্তু বানানো হয়। এরপর বাড়ি থেকে ব্যবহূত পরিত্যাক্ত ছেড়া জামা বা পাঞ্জাবি পরিয়ে দেয়া হয় এটিকে। ডিম্বাকৃতির অংশটিকে ঢেকে দেয়া হয় মাটির হাড়ি দিয়ে। সেই হাড়িতে চোখ -নাক- মুখ এঁকে দেয়া হয় চুন বা চক দিয়ে। ফলে এক অদ্ভূত অভিনব সৌন্দর্য সৃষ্টি হয়। যা দেখে ভয় পাওয়ার মতো একটা ব্যাপার ঘটে। এই কাকতাড়ুয়াকে ফসলি জমির মাঝখানে দন্ডায়মান পুতে রাখা হয়। অনেকের বিশ্বাস কাকতাড়ুয়া বাড়ন্ত ফসলের দিকে পথচারির কুদৃষ্টি থেকে রক্ষা করে।

প্রযুক্তির ছোঁয়ায় চাষাবাদের ধরণ বদলে গেলেও নওগাঁর আত্রাই উপজেলায় ক্ষেতের ফসল রক্ষায় কৃষকরা সনাতন পদ্ধতির কাকতাড়ুয়ার ব্যবহার করছেন।

খড়ের কাঠামোর মাথায় মাটির হাঁড়ি আর তাতে চুন দিয়ে কাঁচা হাতে এঁকে দেয়া হয় নাক, চোখ-মুখ। পরিত্যক্ত জামা গায়ে জড়িয়ে জমিতে দাঁড় করিয়ে রাখা হয়। নাম তার কাকতাড়ুয়া।

কাকতাড়ুয়া হচ্ছে কাক কিংবা অন্যান্য পশু-পাখিকে ভয় দেখানোর জন্য জমিতে রক্ষিত মানুষের প্রতিকৃতি বিশেষ। এর মাধ্যমে পশু-পাখিকে ক্ষেতের ফসল কিংবা বীজের রক্ষণাবেক্ষণের লক্ষ্যে নিরুৎসাহিত করা হয়।

দেখা যায়, ফসলি জমিতে পশু-পাখি তাড়ানোর জন্য কাকতাড়ুয়া জমির মাঝখানে দাঁড় করিয়ে রেখেছে। দূর থেকে দেখলে যেন মনে হয় মানুষ দাঁড়িয়ে আছে। এই কাকতাড়ুয়া দেখে ক্ষেতে পশু-পাখির উপদ্রব ঘটে না। ফলে ফসলও নষ্ট হয় না। বিশেষ করে শুকনো মৌসুমে জমিতে বেগুন, খিরা, মরিচ, আলু, পেঁয়াজ, শসা, টমেটো জাতীয় ফসল রোপণ করা হয় তখনই এই কাকতাড়ুয়াদের ব্যবহার করা হয়।

সরেজমিনে উপজেলার শাহাগোলা ইউনিয়নের মাগুড়াপাড়া ও ভবানীপুর গ্রামের একাধিক কৃষকদের সাথে কথা বললে তারা জানান, কাকতাড়ুয়া পশু-পাখিকে ভয় দেখানোর জন্যে জমিতে রক্ষিত মানুষের প্রতিকৃতি বিশেষ। ক্ষতিকর পাখির আক্রমণ থেকে ফসল রক্ষার উদ্দেশ্যে জমিতে কাকতাড়ুয়া দাঁড় করে রাখা হয়। এটি এক প্রকার ফাঁদ হিসেবে ভয় দেখানোর উদ্দেশ্যে তৈরি করা হয়। সনাতনি ধারায় এটি মানুষের দেহের গঠনের সঙ্গে মিল রেখে পরিত্যক্ত কাপড় দিয়ে সঙের ন্যায় সাজানো হয়। তারপর জমির মাঝামাঝি স্থানে খুঁটি হিসেবে দাঁড় করিয়ে রাখে। এটি বাতাসে দুলতে থাকায় পাখির উৎপাত ও তাদের খাদ্য সংগ্রহ করা থেকে বিরত রাখার প্রয়াস চালানো হয়।

এ বিষয়ে উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ কেএম কাউছার হোসেন বলেন, ফসলের কোনো ক্ষতি হবে না এমন আত্মবিশ্বাস থেকেই প্রত্যন্ত এলাকার কৃষকরা ক্ষেতে কাকতাড়ুয়া স্থাপন করে। চাষাবাদে প্রযুক্তির ব্যবহার বেড়ে যাওয়ায় কৃষক আগের মত আর কাকতাড়ুয়া ব্যবহার করছে না। দিন দিন উপজেলার প্রতিটি এলাকায় কৃষকের কাছে পার্চিং ও আলোকফাঁদ পদ্ধতির ব্যবহার জনপ্রিয় হয়ে উঠছে।

এদিকে উপজেলার কৃষিপ্রেমীরা মনেকরেন গ্রামবাংলার প্রাচীন ঐতিহ্য হিসেবে কাকতাড়ুয়া হাজার বছর বেচে থাকুক তাদের ঐতিহ্যের স্মারক হয়ে এমনটি প্রত্যাশা ।





আর্কাইভ