শিরোনাম:
●   কাপ্তাইয়ে ভ্রাম্যমাণ আদালতে জরিমানা আদায় ●   জননেতা সাইফুল হকের ৭০তম জন্মবার্ষিকীতে ‘সাইফুল হক: যে জীবন মানুষের তরে’ গ্রন্থের মোড়ক উন্মোচন ●   আত্রাইয়ে স্কুলছাত্রীকে ডেকে নিয়ে ধর্ষণের অভিযোগ ●   রাঙ্গুনিয়াতে ৭ বছরের নাতনিকে ধর্ষণের চেষ্টার অভিযোগে নানা গ্রেপ্তার ●   শেষ বিদায়ের বন্ধু’র নবনির্বাচিত কমিটির পরিচিতি সভা ●   ‘সাইফুল হক : যে জীবন মানুষের তরে’ গ্রন্থের মোড়ক উন্মোচন ●   খাগড়াছড়িতে উল্টো রথযাত্রায় শেষ হলো ●   গত দুইবছর ধরে রাষ্ট্র বৈষম্যবিরোধী জুলাই গণঅভ্যুত্থানের উল্টো দিকে হাটছে ●   ভাসমান পেয়ারা হাটে উচ্চ শব্দে গান : জনভোগান্তি ●   সিলেটে সুরমা ও কুশিয়ারার পানি বিপৎসীমা স্পর্শ করলেও বন্যার ঝুঁকি নেই : পাউবো ●   ইউকে ম্যানেজমেন্ট কলেজ এর ১০ বছর পূর্তি উদযাপন ●   খাগড়াছড়িতে সপ্তাহব্যাপী বৃক্ষমেলার উদ্বোধন ●   রাষ্ট্রীয় ব্যয় কমাতে ১৮ মন্ত্রীর পুলিশ এসকর্ট প্রত্যাহার ●   দাখিল পরীক্ষার ফল নিয়ে শঙ্কায় শিক্ষার্থীর আত্মহত্যা ●   রাঙামাটিতে জননেতা সাইফুল হক এর জন্মবার্ষিকী উপলক্ষ্যে বিশেষ প্রার্থনা অনুষ্ঠিত ●   দীর্ঘ ১৯বছর পর বেতার যন্ত্রপাতি ফেরত পেলেন সাবেক এমপি লালু ●   জুলাই গণঅভ্যুত্থানে পর শ্রমিকরা ছাত্রদের মত ক্ষমতার ভাগ নেয়নি,কেবল অধিকার চেয়েছে ●   স্বাধীন, নিরপেক্ষ ও রাজনৈতিক হস্তক্ষেপমুক্ত বিচারব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে ●   হিংসা,বিভাজন, মববাজি,সাম্প্রদায়িক আর জংগীবাদী তৎপরতায় গণঅভ্যুত্থানের অর্জনকে ধূলিসাৎ করা যাবেনা ●   হরিণায় ১২ বিজিবি’র দায়িত্বপূর্ণ এলাকায় ঔষধ সামগ্রী বিতরণ
ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই ২০২৬, ১৪ শ্রাবণ ১৪৩৩

Daily Sonar Bangla
বৃহস্পতিবার ● ৩০ এপ্রিল ২০২৬
প্রথম পাতা » উপ সম্পাদকীয় » স্বাধীন রাজনৈতিক শ্রেণী হিসাবেই শ্রমিকশ্রেণীকে ঘুরে দাঁড়াতে হবে : বহ্নিশিখা জামালী
প্রথম পাতা » উপ সম্পাদকীয় » স্বাধীন রাজনৈতিক শ্রেণী হিসাবেই শ্রমিকশ্রেণীকে ঘুরে দাঁড়াতে হবে : বহ্নিশিখা জামালী
২৭৭ বার পঠিত
বৃহস্পতিবার ● ৩০ এপ্রিল ২০২৬
Decrease Font Size Increase Font Size Email this Article Print Friendly Version

স্বাধীন রাজনৈতিক শ্রেণী হিসাবেই শ্রমিকশ্রেণীকে ঘুরে দাঁড়াতে হবে : বহ্নিশিখা জামালী

ছবি : বহ্নিশিখা জামালী মে দিবস বিশ্ব শ্রমিক দিবস; শ্রমিকশ্রেণীর আন্তর্জাতিক সংহতি প্রকাশের দিন, শ্রমিকশ্রেণীর অধিকার আর মর্যাদা প্রতিষ্ঠায় শপথ গ্রহনের দিন।
১৮৮৬ সালে আমেরিকার শিকাগো শহরের হে মার্কেটে রক্তাক্ত শ্রমিক আন্দোলনে শ্রমঘন্টা কমানো সহ শ্রমিকের অধিকারের দাবি প্রধান হয়ে সামনে এলেও কালক্রমে দুনিয়াজুড়ে শ্রমিক আন্দোলনে ট্রেড ইউনিয়নগত দাবির পাশাপাশি রাজনৈতিক দাবি প্রধান হয়ে উঠতে থাকে।
১৮৮৯ সালে শ্রমিকশ্রেণীর মহান নেতা ফ্রেডেরিক এংগেলস এর নেতৃত্বে কমিউনিস্টদের আন্তর্জাতিক সম্মেলন থেকে প্রতিবছর পহেলা মে শ্রমিক দিবস হিসেবে উজ্জাপনের ঘোষণার পর বিশ্বজুড়ে শ্রমিক আন্দোলনে নতুন উদ্দীপনা তৈরী হয়।শ্রমিক আন্দোলন ধীরে ধীরে রাজনৈতিক চরিত্র গ্রহন করতে থাকে।ক্রমে শ্রমিকশ্রেণী রাজনৈতিকভাবে সচেতন ও সংগঠিত হতে থাকে।এরই প্রথম সফল রাজনৈতিক প্রকাশ ঘটে ১৯১৭ সালে রুশ বিপ্লবের মধ্য দিয়ে, যেখানে শ্রমিকেরা নেতৃত্বদায়ী ভূমিকা পালন করে। রুশ বিপ্লব পরবর্তী ১০০ বছর রাজনৈতিকভাবে শ্রমিকশ্রেণী পৃথিবীর দেশে দেশে আরও অগ্রসর হয়েছে। এই যাত্রায় আগু পিছু আছে, হোচট খাওয়া আছে, আছে জয় পরাজয়।
কিন্তু শ্রমিকশ্রেণী এখনও এক অপ্রতিরোধ্য অগ্রণী শ্রেণী, পুঁজিবাদী ব্যবস্থায় বুর্জোয়া শ্রেণীর বিপরীতে স্বাধীন বিপ্লবী শ্রেণী। বস্তুত এই শ্রেণীর উপরই নির্ভর করছে আগামী দুনিয়ে, মানবজাতির ভবিষ্যৎ, সাম্যভিত্তিক এক মানবিক সভ্যতা।
বাংলাদেশে শ্রমিকশ্রেণী এখনও বিপর্যস্ত, বহুধাবিভক্ত।এখানে শ্রমিকশ্রেণীসহ শ্রমজীবী মেহনতি মানুষের বড় অংশ এখনও এদেশের লুটেরা শাসক শ্রেণী ও তাদের বিভিন্ন দলের সাথে যুক্ত।লুটেরা ধনীক-বনিকদের এসব দল শ্রমিকদের ভোট চায়, কিন্তু তাদের অধিকার দিতে চায়না। গত দেড় দশক শ্রমজীবী সাধারণ মানুষের ভোটের অধিকারই ছিলনা।এবার ২০২৪ এর গণঅভ্যুত্থানের পর ভোটের জন্য শ্রমিকদের কিছুটা মূল্য বেড়েছে সত্য, কিন্তু দেশের নির্বাচনী ব্যবস্থার কারণে শ্রমিকদের কারও ভোটে দাঁড়ানো বা জিতে আসার কোন সুযোগ নেই।ধনীদের কোন না কোন দলে ভোট দেয়া ছাড়া তাদের আর কোন উপায় নেই।
কয়েক দশক আগেও দেশের রাজনীতিতে শ্রমিকদের যেটুকু গুরুত্ব ও মর্যাদা ছিল আজ তা নেই। জাতীয় রাজনীতিতে বিপ্লবী বামপন্থী শক্তি যত দূর্বল ও বিভক্ত হয়েছে শ্রমিকদের রাজনৈতিক গুরুত্ব তত কমেছে।
এর ফলে শ্রমিকদের বেঁচে থাকার ট্রেড ইউনিয়ন আন্দোলনও তত দূর্বল হয়েছে।এই একবিংশ শতাব্দীতেও শ্রমিক, শ্রমজীবী মেহনতি মানুষ এখনও নির্মম নিষ্ঠুর অমানবিক শোষণ, বঞ্চনা আর নিপীড়নের শিকার।শ্রমিক এখন যে মজুরি পায় তা দিয়ে পরিবার নিয়ে বেঁচে থাকা অসম্ভবপ্রায়। তাদের শিক্ষা, স্বাস্থ্য, বাসস্থানসহ মানবিক জীবন নেই বললেই চলে। কোনরকমে বেঁচে থাকার মত মজুরি বা ন্যায্য দাবি নিয়ে আন্দোলনে নামলে মালিক আর সরকার মিলেমিশে আন্দোলন দমন করে।তখন মালিক আর সরকার একাকার হয়ে যায়।শ্রমিক তখন বুঝতে পারে মুখে তারা যাই বলুক এই সরকার, প্রশাসন, রাষ্ট্র সবই তার বিপক্ষে।
শ্রমিকশ্রেণীর বিপুল অংশ যেদিন এই ব্যবস্থা, মজুরি দাসত্বের পুরো পদ্ধতি সম্পর্কে বুঝতে পারবে, মুক্তির পথ চিনে নেবে, সেদিন তাদের অর্ধেক মুক্তি ঘটবে; তারা নিজেরা শ্রেণী সচেতন হয়ে নিজেদের রাজনৈতিক - অর্থনৈতিক মুক্তির রাস্তা খুঁজে নেবে।যে রাষ্ট্র, সমাজ, সভ্যতা দাঁড়িয়ে আছে শ্রমিকশ্রেণীসহ মেহনতি মানুষের রক্ত ঘামে সেদিন তারা তাদের ন্যায্য পাওনা বুঝে নেবে।
প্রতিবছর মে দিবস জানিয়ে দেয় শ্রমিকেরা একটা আলাদা জাত, অনন্তকাল লুটেরা ধনীকদের শ্রম দাসত্বের ঘানি টানার জন্য তার জন্ম হয়নি; শ্রেণী হিসাবে তার জন্ম হয়েছে এক শোষণ বৈষম্যহীন মানবিক ও গণতান্ত্রিক সমাজ ব্যবস্থাকে বাস্তবে রুপ দিতে।
মহান মে দিবসের রাজনৈতিক তাৎপর্য এখানেই।





আর্কাইভ