শিরোনাম:
●   যে কোন চেহারার মব সন্ত্রাস পুরোপুরি বন্ধ করতে হবে ●   সকল উন্নয়ন মূলক কাজে বিএনপির সাথে বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির পথ দীর্ঘ হবে : জুঁই চাকমা ●   সময় তারেক রহমানের উপর এক ঐতিহাসিক দায়িত্ব অর্পণ করেছে ●   ভাষা শহীদেরা আমাদের স্বাধীন রাষ্ট্র গঠনের জমিন তৈরী করে দিয়েছিল ●   রাঙামাটিতে একুশে ফেব্রুয়ারি উপলক্ষ্যে বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির শ্রদ্ধাঞ্জলী ●   একটা গণতান্ত্রিক, প্রগতিশীল, অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশের নেতৃত্ব দিন ●   পার্বত্য চট্টগ্রাম বড়ুয়া সংগঠনের স্মারকলিপি প্রদান, অবস্থান ধর্মঘট, বিক্ষোভ ও হরতাল কার্যক্রম স্থগিত ঘোষণা ●   জুঁই চাকমা’র নির্বাচন পরিচালনা কমিটি বিলুপ্ত ঘোষণা ●   রাঙামাটি-২৯৯ আসনে দীপেন দেওয়ানকে জুঁই চাকমার অভিনন্দন ●   জুঁই চাকমার নির্বাচনী ব্যানার-ফেস্টুন ছিঁড়ে ফেলার অভিযোগ ●   ঢাকা-১২ আসনে কোদাল মার্কায় গণজোয়ার কোদাল মার্কায় ভোট দিয়ে ভোটের মর্যাদা রক্ষা করুন : জননেতা সাইফুল হক ●   আমি প্রতিহিংসার রাজনীতি করিনা : জুঁই চাকমা ●   রাঙামাটি পৌর কর্তৃপক্ষ দিনের বেলায় ময়লা আবর্জনা পরিষ্কার না করে রাতের বেলায় যাতে ময়লা আবর্জনা পরিষ্কার করেন : জুঁই চাকমা ●   বেতবুনিয়াতে জুঁই চাকমার জনসংযোগ ●   ২৪ ঘন্টার মধ্যে সন্ত্রাসীদের গ্রেফতার করুন, অন্যথায় নির্বাচন অফিস ঘেরাও করবো : সাইফুল হক ●   আমি নারীর অধিকার,নারীর সমতা নিয়ে কাজ করিব : জুঁই চাকমা ●   আমার পার্টি গণতন্ত্রের পক্ষে এ কারণে আমি রাঙামাটি ২৯৯ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছি ●   এদের কোন নীতি আদর্শ নাই এরা কখনো ব্যাঙের মুখে চুমু দেয় আবার কখনো সাপের মুখে চুমু দেয় ●   সকল লোভ-লালসার ঊর্ধ্বে উঠে আমাকে কোদাল মার্কায় ভোট দিন : জুঁই চাকমা ●   কোদালেই ভোট দিন, গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক ধারা ফিরিয়ে আনব : জননেতা সাইফুল হক
ঢাকা, সোমবার, ২ মার্চ ২০২৬, ১৮ ফাল্গুন ১৪৩২

Daily Sonar Bangla
শুক্রবার ● ১৭ নভেম্বর ২০২৩
প্রথম পাতা » উপ সম্পাদকীয় » আজ ৪৭ তম মৃত্যুবার্ষিকী মাওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানী : জীবন ও কর্ম
প্রথম পাতা » উপ সম্পাদকীয় » আজ ৪৭ তম মৃত্যুবার্ষিকী মাওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানী : জীবন ও কর্ম
৭৮৪ বার পঠিত
শুক্রবার ● ১৭ নভেম্বর ২০২৩
Decrease Font Size Increase Font Size Email this Article Print Friendly Version

আজ ৪৭ তম মৃত্যুবার্ষিকী মাওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানী : জীবন ও কর্ম

--- অধ্যক্ষ মুকতাদের আজাদ খান :: মজুর কৃষক শ্রমিকের আপনজন মাওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানী আমৃত্যু নির্যাতিত নিপীড়িত বঞ্চিত সাধারণ মানুষের পাশে ছিলেন। তাদের সুখে-দুখে কাঁধে কাঁধ মিলিয়েছেন আজীবন। এ জন্যই তিনি মজলুম, এ জন্যই তিনি গণমানুষের নেতা।
অসময়ে পিতৃমাতৃহীন আবদুল হামিদ খানকে তাঁর চাচা ইবরাহীম খান শৈশবে আশ্রয় দেন। এ চাচাই তাঁকে মাদরাসায় পড়ার সুযোগ করে দেন। মাদরাসায় পড়াকালে তিনি ইরাক থেকে আগত এক পীরের স্নেহভাজন হওয়ায় ওই পীরই তাঁকে পড়তে দেওবন্দ মাদরাসায় পাঠান। দেওবন্দে পড়ালেখার সময়ে তিনি দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ হন।
মাদরাসায় পড়ালেখা শেষে তিনি কাগমারিতে প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষকতা পেশায় যোগ দেন। ঐ সময়ে খুব কাছ থেকে জমিদার নীলকরদের অত্যাচার নির্যাতন নিপীড়ন দেখে তিনি তাদের বিরুদ্ধে সংগ্রামে অবতীর্ণ হন। অন্যায়ের প্রতিবাদে প্রতিরোধ গড়ে তোলায় জমিদারদের রোষানালে পড়ে তাঁকে কাগমারি ছাড়তে হয়।
২২ বছর বয়সে কংগ্রেস নেতা দেশবন্ধু চিত্তরঞ্জন দাশের সংস্পর্শে এসে রাজনীতিতে যুক্ত হন। অসহযোগ আন্দোলনে যুক্ত হওয়ার অপরাধে তাঁকে কারারুদ্ধ হতে হয়। ১৭ মাস পর মুক্ত হন।
১৯২৪ সালে সিরাজগঞ্জে এক জনসভায় মজুর কৃষক শ্রমিকের ওপর জমিদার নীলকরদের অত্যাচার নির্যাতন নিপীড়নের চিত্র জনসম্মুখে তুলে ধরার অপরাধে জন্মভূমি ছাড়তে বাধ্য হয়ে চলে যান আসামের জলেশ্বরে। আসামের ধুবড়ি জেলার ভাসানচরে এক জনসভায় পূর্ব পাকিস্তানে কৃষকের ওপর অত্যাচার নির্যাতনেরর প্রতিবাদ জানান। ওই সমাবেশে সাধারণ কৃষকরা প্রথম থেকে ভাসানচরের মাওলানা পরে ভাসানী নাম উপাধি দেয়। তখন থেকেই তাঁর পরিচয় মাওলানা ভাসানী হিসেবে।
১৯৪৭ সালে ভারত বিভাগের পর তিনি আসাম থেকে পূর্ব বাংলায় চলে আসেন। এসেই প্রতিষ্ঠা করেন পূর্ব পাকিস্তান আওয়ামী মুসলিম লীগ। পরে সংগঠনের নাম হয় পূর্ব পাকিস্তান আওয়ামী লীগ। ১৯৫২ সালে রাষ্ট্রভাষা আন্দোলনে যুক্ত থাকার অপরাধে আবারও কারাবরণ করতে হয় তাঁকে।
১৯৫৪ সালের সাধারণ নির্বাচনে তিনি শেরে বাংলা আবুল কাশেম ফজলুল হক ও হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দীর সঙ্গে যুক্তফ্রন্ট গঠন করেন। এ নির্বাচনে যুক্তফন্ট বিপুল ভোটে বিজয় লাভ করে।
১৯৫৭ সালে তিনি টাঙ্গাইল কাগমারিতে এক বিশাল আন্তর্জাতিক সম্মেলন আয়োজন করেন। যা ইতিহাসে ‘কাগমারি সম্মেলন’ নামে খ্যাত। সম্মেলনে দেশ-বিদেশের অনেক খ্যাতিমান মানুষ যোগদান করেন। সম্মেলনে পূর্ব পাকিস্তানের বঞ্চনার চিত্ত তুলে ধরা হয়।
১৯৭০ সালের নভেম্বর মাসে পল্টন ময়দানের জনসভায় তিনি বলেন পাকিস্তান সরকার ধর্ম ও জাতীয় সংহতির নামে পূর্ব পাকিস্তানের জনগনকে শোষণ করছে। ভাষণে ‘শোষণ’ শব্দটি বার বার উচ্চারণ করে জাতীকে সতর্ক করেছিলেন তিনি। ভাষণে তিনি এও বলেছিলেন পূর্ব পাকিস্তানের জনগনের উপর অত্যাচার নির্যাতন নীপিড়ন চলতে থাকলে পূর্ব পাকিস্তান একদিন স্বাধীন হয়ে যাবে।
১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ মধ্যরাত থেকে পাকিস্তানী সৈন্যদের হত্যাযজ্ঞ শুরু পরবর্তীতে পাকিস্তানী সৈন্যরা মাওলনা আবদুল হামিদ খান ভাসানীর টাঙ্গাইলের বাড়িঘর পুড়িয়ে দেয়। ভারত গিয়ে মুক্তিযুদ্ধে অংশ নেয়া ভাসানী মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন প্রবাসী বাংলাদেশ সরকারের উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর পাকিস্তানী সেনাবাহিনী আত্মসমর্পনের পর তিনি বাংলাদেশে ফিরে আসেন। কিন্তু স্বাাধীন দেশের কোন পদমর্যাদা মোহ তাঁকে প্রভাবিত করতে পারেনি। তিনি সবসময় বঞ্চিত সাধারণ মানুষের পাশে ছিলেন।
মাওলানা ভাসানী নিজে প্রাতিষ্ঠানিক পড়ালেখায় বেশিদূর এগুতে না পারলেও শিক্ষা প্রসারে তিনি প্রতিষ্ঠা করেছেন ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় (সন্তোষ, টাঙ্গাইল), হাজী মুহম্মদ মহসিন কলেজ (মহীপুর) ও মাওলানা মোহাম্মদ আলী কলেজ (টাঙ্গাইল)।
মাওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানী সজ্জনের মূর্ত প্রতীক। তাঁর উপমা কেবলই তিনি। তাঁর জীবনাচারণ ছিল সাদামাটা সহজ সরল অনাড়ম্বর।
এই মজলুম জননেতা ১৮৮০ সালে সিরাজগঞ্জের ধানগড়া গ্রামে এক দরিদ্র কৃষক পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতা-হাজী শরাফত আলী খান, মাতা-মজিরন বেগম।
১৯৭৬ সালে ১৭ নভেম্বর মজলুম জননেতা মাওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানী ৯৬ বছর বয়সে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে মৃত্যুবরণ করেন। ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় (সন্তোষ, টাঙ্গাইল) প্রাঙ্গনে তাঁকে দাফন করা হয়। হে মহান আল্লাহ, এই মজলুম জননেতাকে জান্নাতের উচ্চ মাকাম দান করুন।
প্লিজ, লেখাটি কপি করলে সূত্র উল্লেখ করুন। কেননা, একটি লেখা লিখতে লেখককে অনেক পরিশ্রম, সময় ও চিন্তার সমন্বয় করতে হয়।

লেখক : অধ্যক্ষ মুকতাদের আজাদ খান
অধ্যক্ষ, তাহের-মনজুর কলেজ,সীতাকুণ্ড, চট্টগ্রাম।
তারিখ: ১৭ নভেম্বর ২০২১, বুধবার।





আর্কাইভ