বুধবার ● ৭ অক্টোবর ২০২৬
প্রথম পাতা » ছবি গ্যালারী » রাঙামাটিতে জমি বিরোধ নিয়ে ১৮ জনের বিরুদ্ধে পুলিশের চার্জশিট
রাঙামাটিতে জমি বিরোধ নিয়ে ১৮ জনের বিরুদ্ধে পুলিশের চার্জশিট
স্টাফ রিপোর্টার (রাঙামাটি) :: রাঙামাটি সদর উপজেলার রাঙ্গাপানি মৌজায় ১০ শতক জমির মালিকানা ও দখল নিয়ে বিরোধের ঘটনায় ১৮ জনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র (চার্জশিট) দাখিল করেছে পুলিশ। জমি দখল, প্রতারণা, জাল কাগজপত্র তৈরি ও ব্যবহার এবং হুমকির অভিযোগের বিষয়ে তদন্তে প্রাথমিক সত্যতা পাওয়ার কথা উল্লেখ করেছে তদন্তকারী পুলিশ।
রাঙামাটি কোতয়ালী থানার ২৯ জুলাই ২০২৬ তারিখের ৮৪ নম্বর অভিযোগপত্রে এসব তথ্য উল্লেখ করা হয়েছে। উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের অনুমোদনের পর একই দিন অভিযোগপত্রটি আদালতে দাখিল করা হয়।
মামলার এজাহার ও পুলিশের তদন্ত প্রতিবেদন সূত্রে জানা যায়, রাঙামাটি সদর উপজেলার ১০২ নম্বর রাঙ্গাপানি মৌজার ৩৩৮১ নম্বর দাগে ৪ শতক এবং ৩৩৮৩ নম্বর দাগে ৬ শতক—মোট ১০ শতক জমি মৃত মো. আবু তাহেরের নামে রেকর্ডভুক্ত। মিউটেশন মামলা নম্বর ২৫৭/১৯৮৪-৮৫-এর মাধ্যমে তিনি ওই জমির মালিকানা লাভ করেন বলে নথিতে উল্লেখ রয়েছে।
জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের রাজস্ব শাখার তদন্ত প্রতিবেদনেও জমাবন্দিতে ওই জমির রেকর্ড সঠিক এবং জমিটি ব্যক্তি মালিকানাধীন বলে উল্লেখ করা হয়েছে। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, সরকারের ভূমি উন্নয়ন কর ছাড়া ওই জমিতে সরকারের অন্য কোনো স্বত্ব বা স্বার্থ নেই।
নথি অনুযায়ী, মো. আবু তাহের ২০১৬ সালের ২ ডিসেম্বর মারা যাওয়ার পর তাঁর স্ত্রী, সন্তান ও অন্যান্য উত্তরাধিকারীরা জমিটির মালিকানা দাবি করেন। তাঁদের অভিযোগ, প্রকৃত মালিকানা সম্পর্কে অবগত থাকা সত্ত্বেও কয়েকজন ব্যক্তি জমিটিকে খাস জমি হিসেবে দেখিয়ে বিভিন্ন হলফনামা ও কাগজপত্র তৈরি করেন এবং পরবর্তী সময়ে সেগুলো জমির মালিকানার প্রমাণ হিসেবে বিভিন্ন সরকারি দপ্তরে ব্যবহার করেন।
পুলিশের তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মো. ছিদ্দিককে বিক্রেতা এবং চম্পা বেগমকে ক্রেতা দেখিয়ে ২০১০ সালের ৩১ আগস্ট ১৭৮/২০১০ নম্বর একটি হলফনামা তৈরি করা হয়। পরবর্তী সময়ে চম্পা বেগম চার শতক জমিকে খাস জমি হিসেবে দাবি করে সেখানে বিদ্যুৎ সংযোগ ও পৌর হোল্ডিং গ্রহণ করেন বলেও তদন্ত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
এ ছাড়া সাইদা বেগম ওরফে শাহিদা বেগমসহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে ওই জমি অন্যদের কাছে বিক্রি ও দখল হস্তান্তরের অভিযোগের কথাও তদন্ত প্রতিবেদনে উল্লেখ রয়েছে।
জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের প্রতিবেদনে মৃত আবু তাহেরের নামে ১০ শতক জমি রেকর্ডভুক্ত থাকার বিষয়টি উল্লেখ করা হয়েছে। অন্যদিকে বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (বিউবো) প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তদন্তে উল্লেখ করা ১০টি বিদ্যুৎ মিটারের মধ্যে চম্পা বেগম, আব্দুল খালেক ও সাইদা বেগম ওরফে শাহিদা বেগমের সংযোগের ক্ষেত্রে ভূমির মালিকানা বা ব্যবহারকারীর পক্ষে বৈধ কাগজপত্র পাওয়া যায়নি। পরে কোতয়ালী থানার সহায়তায় ওই তিনটি বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়।
বাকি সাতজন গ্রাহকের মালিকানা-সংক্রান্ত বৈধ কাগজপত্র চাওয়া হলে তাঁরা যুগ্ম জেলা ও দায়রা জজ আদালতের শরণাপন্ন হন। তাঁদের বিষয়ে আদালতে কার্যক্রম চলমান রয়েছে বলে বিউবোর প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
এদিকে মৃত আবু তাহেরের ওয়ারিশদের অভিযোগ, অভিযুক্তদের কেউই ওই জমির বৈধ মালিক নন এবং তাঁদের কাছে মালিকানার বৈধ কাগজপত্রও নেই। তাঁদের প্রশ্ন, মালিকানা-সংক্রান্ত বৈধ কাগজপত্র না থাকা সত্ত্বেও কীভাবে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের নামে পৌর হোল্ডিং ও বিদ্যুৎ সংযোগ দেওয়া হলো।
ওয়ারিশদের আরও অভিযোগ, মামলা দায়েরের পর চম্পা বেগম নিজেকে রাঙামাটি সদর থানার ৮ নম্বর ওয়ার্ড জাতীয়তাবাদী মহিলা দলের সভানেত্রী পরিচয় দিয়ে তাঁর ও তাঁর স্বামীর নাম মামলা থেকে বাদ দেওয়ার জন্য রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্নভাবে হুমকি ও হয়রানি করছেন।
তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন চম্পা বেগম। মুঠোফোনে তিনি বলেন, ২০১০ সালে মো. ছিদ্দিকের কাছ থেকে চার শতক খাস জমি কিনে সেখানে ঘর নির্মাণ করে বসবাস করছেন। তাঁর কাছে খাস জমি ক্রয়ের কাগজ ছাড়া অন্য কোনো কাগজপত্র নেই। তিনি দাবি করেন, ওই জমির মালিক মৃত মো. আবু তাহের নন।
চম্পা বেগম আরও বলেন, জায়গাটি কোনো কারণে ছেড়ে দিতে হলে তিনি ছেড়ে দেবেন বলেও জানান।” মামলার বিষয়ে বিস্তারিত জানেন না দাবি করে তাঁর বিরুদ্ধে আনা অভিযোগও তিনি অস্বীকার করেন।
পুলিশের তদন্ত শেষে মো. ছিদ্দিক, চম্পা বেগম, আব্দুল খালেক, আব্দুল জলিল, তৈয়বা বেগম ওরফে তৈয়বা খাতুন, সাইদা বেগম ওরফে শাহিদা বেগমসহ মোট ১৮ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়েছে।
তদন্ত প্রতিবেদনে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে বেআইনিভাবে দলবদ্ধ হয়ে জমিতে প্রবেশ, জমি দখল, প্রতারণা, জাল কাগজপত্র তৈরি ও ব্যবহার এবং হুমকি দেওয়ার অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়ার কথা উল্লেখ করেছে পুলিশ।
বর্তমানে মামলাটি বিজ্ঞ আদালতে বিচারাধীন রয়েছে।




পার্বতীপুরে বিদ্যুতের তার চুরি করতে গিয়ে যুবকের মৃত্যু
করেরহাটে অগ্নিকান্ডে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি
পদত্যাগ করেছেন বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির যুব সংহতির সদস্য সচিব মীর রেজাউল আলম
রাঙামাটি জেলা বিএনপি নেতার আশির্বাদে আওয়ামীলীগ নেতা সহ-সভাপতি
প্রধান শিক্ষক প্রকাশ কুসুম বড়ুয়া বিরুদ্ধে পাহাড় কাটার সংবাদের প্রতিবাদ
অবৈধ স্থাপনার কারণে সড়ক দুর্ঘটনা দিনদিন বৃদ্ধি পাচ্ছে : রাঙামাটি সড়ক ও জনপথ বিভাগ
সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ছবি বিকৃত করে ফেইজবুকে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে
প্রকাশ কুসুম বড়ুয়া পার্বত্য চট্টগ্রাম বড়ুয়া সংগঠনের কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক
পার্বত্য চট্টগ্রাম বড়ুয়া সংগঠন থেকে শ্যামল চৌধুরী বহিষ্কার 