শিরোনাম:
●   অজিতানন্দ মহাথেরোর পিতা-মাতার স্মরণে অষ্টপরিষ্কারসহ সংঘদান ও জ্ঞাতিভোজন অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত ●   আল্লামা ফুলতলী ছাহেব ক্বিবলাহ (রহঃ) মাজার জিয়ারতে দোয়ারাবাজারের নেতৃবৃন্দের সংক্ষিপ্ত সফর ●   সংরক্ষিত নারী আসনে বিএনপির মনোনয়ন পেলেন জীবা আমিনা খান ●   তামাক ব্যবহার কমাতে ও রাজস্ব বাড়াতে তিন প্রস্তাব ●   সবার আগে বাংলাদেশ, দেশের স্বার্থকে সমুন্নত রেখে কাজ করতে হবে : ভূমি ও পার্বত্য প্রতিমন্ত্রী মীর হেলাল উদ্দীন এমপি ●   নবীগঞ্জে সরকারী জমি নিয়ে দুপক্ষের সংঘর্ষে নিহত-১ : আহত-২০ ●   রাঙামাটিতে হাম-রুবেলা টিকাদান কর্মসূচি উপলক্ষে প্রেস কনফারেন্স ●   নানিয়ারচর সেনাবাহিনীর উদ্যোগে শিক্ষার্থীদের বিদায়ী সংবর্ধনা ও শিক্ষা সামগ্রী উপহার ●   রাঙ্গুনিয়ায় ৮০০ কৃষক পেল বিনামূল্যে আউশ বীজ ও সার বিতরণ ●   জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধিতে বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির ক্ষোভ ও প্রতিবাদ ●   ঈশ্বরগঞ্জে প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষা সম্পন্ন : উপস্থিতির হার ৬২ শতাংশ ●   কাউখালীতে সাংগ্রাই উপলক্ষে জল উৎসব ●   গাজীপুরে বৃহত্তর চট্টগ্রাম সমিতির ঈদ পুনর্মিলনী অনুষ্ঠিত ●   রাঙ্গুনিয়ায় পৃথক তিন ঘটনায় ৩ নারী গ্রেফতার ●   ঈশ্বরগঞ্জ গার্লস স্কুল এন্ড কলেজে এসএসসি পরীক্ষার্থীদের বিদায় ●   ১৯৭১ এর ১৭ এপ্রিল মেহেরপুরের মুক্তিযুদ্ধকালীন সরকারের প্রতি বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির শ্রদ্ধা জ্ঞাপন ●   পার্বত্য চট্টগ্রাম বড়ুয়া সংগঠনের কেন্দ্রীয় কমিটি পূর্ণগঠন : রাঙামাটি জেলাসহ ৪ কমিটি বিলুপ্ত ঘোষণা ●   খাদ্যপ্যাকেটে ‘ফ্রন্ট-অব-প্যাকেজ লেবেলিং’ চালুর দাবি ●   আত্রাইয়ে আদালতের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে স্থাপনা নির্মাণের অভিযোগ ●   বীর মুক্তিযোদ্ধা সৈয়দ নাজিম উদ্দিনের মৃত্যুতে সিলেট-চট্টগ্রাম ফ্রেন্ডশীপ ফাউন্ডেশনের শোক প্রকাশ
ঢাকা, রবিবার, ২৬ এপ্রিল ২০২৬, ১৩ বৈশাখ ১৪৩৩

Daily Sonar Bangla
বুধবার ● ৩০ জুন ২০২১
প্রথম পাতা » উপ সম্পাদকীয় » সাঁওতাল বিদ্রোহের ১৬৬ বছর : সিধু-কানু-চাঁদ-ভৈরব-ফুলমনিসহ সকল শহীদদের প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধা
প্রথম পাতা » উপ সম্পাদকীয় » সাঁওতাল বিদ্রোহের ১৬৬ বছর : সিধু-কানু-চাঁদ-ভৈরব-ফুলমনিসহ সকল শহীদদের প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধা
১৬২৩ বার পঠিত
বুধবার ● ৩০ জুন ২০২১
Decrease Font Size Increase Font Size Email this Article Print Friendly Version

সাঁওতাল বিদ্রোহের ১৬৬ বছর : সিধু-কানু-চাঁদ-ভৈরব-ফুলমনিসহ সকল শহীদদের প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধা

ছবি : সংগৃহীতপ্রদীপ মার্ডী :: স্পর্ধার ১৬৬ বছর। আজ ঔপনিবেশিক বিট্রিশ শাসকদের উৎখাতে ঐতিহাসিক “সান্তাল হুল বা বিদ্রোহ” এর ১৬৬ তম বার্ষিকীতে, বিদ্রোহের জন নায়ক সিধু মুরমু, কানু মুরমু, ফুলমনি সহ লড়াইয়ে শহীদ সকল সূর্য সন্তানদের প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধা।
১৮৫৫ সালের সান্তাল বিদ্রোহ উপমহাদেশীয়দের স্ব-শাসন প্রতিষ্ঠার প্রথমতম বিদ্রোহ না হলেও একটি ধারাবাহিক সংগ্রামের অংশ বটে। এর পূর্বে ১৭৮১-৮৪ সালে শহীদ তিলকা মাঝির নেতৃত্বে ছোটনাগপুর, ভাগলপুর, দামিন-কো অঞ্চলের সান্তালসহ অনান্য আদিবাসী জনগণ বিট্রিশ শাসনের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করেছিলো যা ‘খেরওয়ার বিদ্রোহ’ নামে পরিচিত। এটা বললে অত্যুক্তি হবে না যে সিধু-কানু খেরওয়ার বিদ্রোহের পুরোধা মহান তিলকা মাঝির অসমাপ্ত সংগ্রামকে এগিয়ে নিতেই সর্বগ্রাসী বিট্রিশ শাসনের বিরুদ্ধে গর্জে উঠেছিলো যা একপ্রকার ঐতিহাসিক দায়বোধের প্রকাশও বটে। সান্তাল বিদ্রোহের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য হচ্ছে এটি কর্মসূচি হিসেবে মুন্ডা বা অনান্য বিদ্রোহের মতো কোন ধর্মীয় সংস্কার কর্মসূচিকে সামনে রাখে নি বরং বিদ্রোহের আকাঙখা খেরওয়ার বিদ্রোহের মতোই অতিশয় বৈষয়িক ও বস্তুগত বিষয় ছিলো।
এই বিদ্রোহের নেতা সিধু ও কানু জনগণের সামনে নিজেদের কোন দেবতার প্রতিভূ হিসেবে ঘোষণা করেন নি আবার কোন স্বপ্নে আদিষ্ট বাণীও আওড়ান নি। বর্তমান সময়ে অনেক ঐতিহাসিক ১৮৫৫ সালের ‘সান্তাল হুল’কে ধর্মীয় সংস্কার আন্দোলন হিসেবে চিহ্নিত করে বিট্রিশ শাসন বিরোধীতার দিকটা খাটো করে দেখাতে চান। আসলে তৎকালীন ব্রিটিশ শাসকদের লিখিত পান্ডুলিপি থেকেই এটা পরিষ্কার হয় সান্তাল হুল কোন ধর্মীয় সংস্কার আন্দোলন ছিলো না। বিদ্রোহের দাবি ছিলো জলের মতো পরিষ্কার ‘আমাদের ভূমি, আমাদের কর্তৃত্ব’।
মূলত ছোট নাগপুর, ভাগলপুর, বীরভূম, ভগনাদিহি, দামিন-কো ইত্যাদি অঞ্চলের ভূমি ও বনাঞ্চলের উপর আদিবাসীদের চিরাচরিত সার্বভৌম অধিকার খর্ব করে বিট্রিশদের অর্পিত খাজনা ও তা আদায়ে বহিরাগত মহাজন-জমিদারদের আদিবাসী জনগণের উপর বর্বরোচিত অত্যাচারই বিদ্রোহের প্রেক্ষাপট তৈরী করেছে। এখানে বলে রাখা ভালো বিট্রিশ আগমনের পূর্বে মুঘল শাসকদের ছোট নাগপুরসহ উল্লিখিত আদিবাসী অধ্যুষিত অঞ্চলে তেমন কোন দৃঢ় কর্তৃত্ব ছিলো না। তাই এ অঞ্চলে বসবাসকারী আদিবাসীরা দীর্ঘকাল ধরেই একপ্রকার স্বাধীন জীবনাচারণের মধ্য দিয়ে বেড়ে উঠেছিলো। সেখানে হঠাৎ উদ্ভুত বিট্রিশ কর্তৃত্ব এবং অ-আদিবাসী জমিদার-মহাজনের দৌরাত্ম মূলত আদিবাসীদের ক্ষোভকে চরমে তোলে।
১৮৫৫ সালের সান্তাল বিদ্রোহের সবচেয়ে জরুরি দিক হলো এর রাজনৈতিক চরিত্র যেখানে সিধু-কানু’র নেতৃত্বে আদিবাসী জনগণ বিট্রিশ শাসক এবং তাদের অনুচর স্থানীয় জমিদার ও মহাজনদের বিতাড়িত করার মাধ্যমে স্ব-শাসন প্রতিষ্ঠায় ব্রত হয়েছিলেন। সান্তাল বিদ্রোহের এই ক্ষুরধার উদ্দেশ্যই পরবর্তীতে কোন বিদ্রোহী নেতাকে বাঁচিয়ে না রাখার অনুঘটক হিসেবে কাজ করেছে। কারণ বিট্রিশরা ভয় পেয়েছিলো, তিলকা মাঝি’র পরেও সিধু-কানু যেভাবে মাতৃভূমিকে বর্হিশত্রু মুক্ত করতে যে ঐতিহাসিক দায়বোধের পরিচয় দিয়েছে তা সংক্রামক হয়ে উঠলে তাদের রাজত্ব খুব বেশিদিন টিকবে না।
জানি উপসংহার টানার জন্য এই আলোচনা যথেষ্ট নয় তবে এটা পরিষ্কার যে, সান্তাল বিদ্রোহ নিছক একটি বুনো ক্ষোভ নয় বরং উপমহাদেশের প্রথমতম স্বাধীনতা সংগ্রামের একটি। জাতিগত বৈচিত্রতার এই পূণ্য ভূমিতে সকল জাতির সংগ্রাম যোগ্য মর্যাদা ও স্বীকৃতি পাক এবং উপমহাদেশীয়রা নিজেদের সূর্য সন্তানদের চিনতে শিখুক এই কামনায় করি।





আর্কাইভ