শিরোনাম:
●   খাগড়াছড়িতে বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টি রাঙামাটি জেলা কমিটির পক্ষ থেকে এম.এন লারমা’র প্রতি শ্রদ্ধাঞ্জলি জ্ঞাপন ●   প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান ও বেগম খালেদা জিয়ার মাজারে জননেতা সাইফুল হকের শ্রদ্ধাজ্ঞাপন ●   ১১ জানুয়ারী প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান ও বেগম খালেদা জিয়ার কবরে জননেতা সাইফুল হক ●   বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির ২১ সদস্য বিশিষ্ট নির্বাচন পরিচালনা কমিটি গঠিত ●   বিশ্বাসযোগ্য সুষ্ট-নিরপেক্ষ নির্বাচনের স্বার্থে রিটার্নিং অফিসার নাজমা আশরাফীকে ২৪ ঘন্টার ভিতর রাঙামাটি থেকে প্রত্যাহারের দাবি ●   তারেক রহমানের সাথে বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির নেতৃবৃন্দের সৌজন্য সাক্ষাৎ ●   প্রার্থী, ভোটার ও ভোটকেন্দ্রের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে ●   বাংলাদেশের নারী শিক্ষা উন্নয়নে বেগম খালেদা জিয়ার অবদান অপরিসীম : জুঁই চাকমা ●   রাঙামাটি-২৯৯ আসনে জুঁই চাকমার মনোনয়ন পত্র বৈধ ঘোষণা ●   বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির শোক ●   সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টি রাঙামাটি জেলা কমিটির শোক ●   রাঙামাটি জেলাবাসির সুখ-শান্তি কামনায় রাজবন বিহারে জুঁই চাকমা পূণ্যানুষ্ঠান ●   রাঙামাটিতে বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী জুঁই চাকমা রিটার্নিং অফিসারের নিকট মনোনয়ন জমা ●   দলীয় মনোনয়ন হাতে পেলেন রাঙামাটি-২৯৯ আসনের সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী জুঁই চাকমা ●   রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা বিবেচনায় না নিয়ে দূর্বৃত্ত সন্ত্রাসীসের বিরুদ্ধে অবিলম্বে কঠোর পদক্ষেপ নিন ●   ঠান্ডা মাথায় পরিকল্পিতভাবে দুই পত্রিকা অফিসে অগ্নিসংযোগ করা হয়েছে ●   নিউএজ সম্পাদক নূরুল কবীরের উপর হামলার ঘটনায় নিন্দা ●   পার্বত্য চট্টগ্রাম বড়ুয়া সংগঠনের মূখপাত্র নির্মল বড়ুয়া মিলনের জন্মদিনে বড়ুয়া নেতৃবৃন্দের শুভেচ্ছা ●   নির্বাচন ও গণভোট বানচালে নানা অপতৎপরতা চলছে ●   রাঙামাটিতে দৈনিক সবুজ বাংলার তৃতীয় বর্ষ উদযাপন
ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ১৫ জানুয়ারী ২০২৬, ২ মাঘ ১৪৩২

Daily Sonar Bangla
বুধবার ● ২৫ আগস্ট ২০২১
প্রথম পাতা » উপ সম্পাদকীয় » মহামারীকালেও নারীর রক্ষা নেই ২৪ আগস্ট ইয়াসমিন দিবস
প্রথম পাতা » উপ সম্পাদকীয় » মহামারীকালেও নারীর রক্ষা নেই ২৪ আগস্ট ইয়াসমিন দিবস
৬৮৪ বার পঠিত
বুধবার ● ২৫ আগস্ট ২০২১
Decrease Font Size Increase Font Size Email this Article Print Friendly Version

মহামারীকালেও নারীর রক্ষা নেই ২৪ আগস্ট ইয়াসমিন দিবস

ছবি : সংবাদ সংক্রান্ত বহ্নিশিখা জামালী :: দিনটি আজ নারী নির্যাতন প্রতিরোধ দিবস হিসাবে পালন করা হচ্ছে।
১৯৯৫ সালে কিশোরী ইয়াসমিনকে দিনাজপুরে গণধর্ষণ করে মেরে ফেলা হয়েছিল। এর প্রতিবাদ-বিক্ষোভে দিনাজপুরে হাজার হাজার মানুষ রাস্তায় নেমে এসেছিল,শহর অচল হয়ে গিয়েছিল ; সৃষ্টি হয়েছিল গণবিষ্ফোরণ।সারাদেশ প্রতিবাদ - বিক্ষোভে ফেটে পড়েছিল।প্রশাসন ও সরকারকে আসামীদের গ্রেফতার ও বিচারে বাধ্য করা হয়। ২০০৪ সালে ধর্ষক ও হত্যাকারীদের সর্বোচ্চ শাস্তি কার্যকরি করা হয়।
আন্দোলনরত নারী সংগঠনসমূহ ২৪ আগস্টকে ইয়াসমিন দিবস হিসাবে ঘোষণা করে এই বিশেষ দিনটিকে ধর্ষণ ও নারী নিপীড়ন বিরোধী প্রতিরোধের প্রতীক হিসাবে ঘোষণা করে।
ইয়াসমিনের ধর্ষক ও খুনীদের বিচার হয়েছে সত্য; বিচার হয়েছে আরও কিছু ধর্ষক ও খুনীদের। কিন্তু এটা নির্মম সত্য যে অধিকাংশ ধর্ষক, নারী নিপীড়ক ও খুনিরা এখনও বিচারের বাইরে। আমাদের চারিপাশে, সমাজের নানা স্তরে তারা বুক ফুলিয়ে চলাফেরা করছে।নির্যাতীত ও ধর্ষিত অধিকাংশ পরিবার এদের মাস্তানী আর দৌরাত্মে চরম আতংকে দিন পার করছে।লাঞ্চিত নারীর বিচার পাওয়া দূরের কথা, নিজেদের জান বাচাঁতেই তারা আকুল, অস্থির।
নানা গবেষণা আর তথ্যে দেখা যায় ধর্ষিত আর নির্যাতিত বিপুল অধিকাংশ নারী আর মেয়ে শিশুরা গরীব পরিবারের সদস্য।এটার এক ধরনের শ্রেণীগত বৈশিষ্ট রয়েছে। সামাজিক ও অর্থনৈতিকভাবে এই শ্রেণীর পরিবারসমূহ সবচেয়ে দূর্বল ও পিছিয়ে থাকার কারণে তাদের পরিবারের নারী ও নারী শিশুরা সবচেয়ে ঝুঁকির মধ্যে থাকে। এ কারণে অধিকাংশ ক্ষেত্রে তাদের পক্ষে ধর্ষণ ও নিপীড়নের বিচারের দাবি নিয়ে থানা,পুলিশ আর আইন - আদালতে যাওয়া সম্ভব হয় না।কুমিল্লায় ক্যান্টনমেন্ট অঞ্চলে ধর্ষিত ও নিহত তনুর বাবা মেয়ের ধর্ষণ ও হত্যার বিচার না পাওয়ার ক্ষোভে গণমাধ্যমের সামনে চিৎকার করে বলেছিলেন “গরীব বলে কি স্বাধীন দেশে আমি আমার মেয়ের হত্যার বিচার পাব না”।তনুর বাবার এই প্রশ্নের উত্তর কেউ দিতে পারেনি।যারা এই প্রশ্নের উত্তর দিতে পারতেন, ধর্ষক ও খুনীদের গ্রেফতার ও বিচারের আওতায় আনতে পারতেন তারাও আর বেশীদূর এগুতে পারেন নি।কারণ তাহলে থলের বিড়াল বেরিয়ে যেত।বোঝা গেছে ঐটুকু ঝুঁকি নেবার ক্ষমতাও তাদের নেই।যারা সকাল বিকাল বিচারহীনতার সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে আসার বক্তৃতা করেন তারা তাদের চেহারা ও মুরোদও প্রতিদিন দেখিয়ে দিচ্ছেন।
তনুর বাবার এই প্রশ্ন তো আসলে হাজার হাজার ভুক্তভোগী পরিবারের প্রশ্ন।তনুর বাবা মা ঠিকই বুঝে নিয়েছেন, কাগজে কলমে যাই লেখা থাকুক গরীব ও ক্ষমতাহীনদের জন্য আসলে কোন আইন নেই। আর তনুর বাবা মা’র মত হাজারো বাবা মা’র তো এটাও জানা যে অধিকাংশ ধর্ষক,নারী নিপীড়ক আর হত্যাকারীরা বিত্তবান, ক্ষমতাশালী; এরা অধিকাংশ থাকে প্রশাসন আর সরকারি দলের ছত্রছায়ায়। থানা,পুলিশ, আইন, আদালতে তো এদেরই প্রভাব বেশী। কার ঘাড়ে কটা মাথা যে এদের বিরুদ্ধে কথা বলে!
এ কারণেই অধিকাংশ ধর্ষক আর খুনীরা পার পেয়ে যায়।অনেক সময় টাকা দিয়ে রফা করা হয়।মামলা করার পরও অপরাধীদের গ্রেফতারে পুলিশী তৎপরতা দেখা যায় না।আত্মহত্যায় প্ররোচনাকারী ক্ষমতাবানকে গ্রেফতার বা ন্যূনতম জিজ্ঞাসাবাদও না করে পুলিশী রিপোর্ট দিয়ে হয় - ‘ আত্মহত্যাকারী নারীর সাথে অভিযুক্ত ব্যক্তির কোন সংশ্লিষ্টতা পাওয়া যায়নি’। এসব নিয়ে আমাদের গণমাধ্যম অনুসন্ধানী রিপোর্ট করারও সাহস রাখে না।কারণ অভিযুক্তদের ক্ষমতার হাত অনেক লম্বা।
আর এটা আমাদের সবারই জানা যে ধর্ষিত ও নির্যাতিত হবার পর থানা পুলিশ করলে অনেক ক্ষেত্রেই ভুক্তভোগী নারীর আবার কত ধরনের হেনস্তা ও পরোক্ষ ধর্ষণের শিকার হতে হয়।পুরুষতন্ত্র আর তার বিকার,বিকৃতি কতভাবেই না হাজির হয়।নায়িকা পরিমণি তার এক বড় উদাহরণ।
বিচারের আগেই তার বিচার হয়ে গেল! হয়ে গেল তার ক্যামেরা ট্রায়াল বা মিডিয়া ট্রায়াল। গুরুত্বপূর্ণ পেশাগত দায়িত্বে থাকা পুলিশ কর্মকর্তারা কতভাবেই তার চরিত্র হনন করলেন ? এই ঘোর অন্ধকারেও যে মিড়িয়ার পেশাদার দায়িত্বের উপর মানুষ এখনও ভরসা রাখতে চায় সেই মিডিয়া কর রংরুপ দিয়ে পরি মণিকে চিত্রিত করেছে ? কাদেরকে আপনারা আড়ালে রাখছেন, তাদেরকে রক্ষা করছেন! পরিমণির নানা পরশুদিন ঢাকায় কোর্ট এর বারান্দায় পরিমণির সাথে দেখা করে বলেছেন , দেশের আশিভাগ মানুষ জানে পরিমণির সাথে অন্যায় ও অবিচার করা হচ্ছে। তিনি কি বাডিয়ে কিছু বলেছেন ? মনে হয় না।কেন তাকে তিন তিন বার রিম্যান্ডে নিতে হবে , কেন তাকে জামিন দেয়া হবে না; এর কি কোন সদুত্তর আছে? মনে হয় না।ঢাকা শহরে কতজন মাদক ব্যবসায়ী, মাফিয়া, সন্ত্রাসী গডফাদারদের গ্রেফতার করা হয়েছে,অভিজাত এলাকার কটা অবৈধ মদের বার আপনারা বন্ধ করেছেন? নাগরিক হিসাবে এসব প্রশ্ন করলে আপনারা কি বিব্রতবোধ করবেন ?
করোনার এইদ দূর্যোগকালেও নারীর উপর সহিংসতা, নিপীড়ন, নিগ্রহ, ধর্ষণ বৃদ্ধি পেয়েছে। এই অতিমারীতেও লক্ষ লক্ষ নারী কর্মহীন হয়েছেন,চরম দারিদ্র্য সীমার নীচে নেমেছেন। শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকায় করোনাকালে বাল্যবিবাহ বৃদ্ধি পেয়েছে। জীবন রক্ষায় অনাকাংখিত পেশাও বেছে নিতে হচ্ছে। মহামারীকালেও নারীর রক্ষা নেই,নেই ন্যুনতম সুরক্ষা।
নারী এমনিতেই শ্রেণী শোষণ আর পরিবার - সমাজের নানা ধরনের নিপীড়ন - নির্যাতনে চিড়ে - চেপটা,তার উপর যখন রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে পুরুষতন্ত্রের দৌরাত্বের অশ্লীল আর কুরুচিপূর্ণ আচরণ দেখতে হয় তখন মনে প্রশ্ন জাগে আমরা একবিংশ শতাব্দীতে মুক্তিযুদ্ধের বাংলাদেশে আছি?
এই ঘনঘোর অমাবস্যা কাটাতে হবে, অবসান ঘটাতে হবে নারীর উপর শ্রেণী ও পুরুষতান্ত্রিক যাবতীয় নির্যাতন - নিপীড়ন, ভেদ - বৈষম্য। কারণ নারীর মুক্তি না হলে সমাজেরও মুক্তি নেই।
ইয়াসমিন দিবসে এটাই হোক আমাদের দিশা।

লেখক : বহ্নিশিখা জামালী
নারী নেত্রী ও সম্পাদক কালের দাবি।





আর্কাইভ